লবণাক্ত অঞ্চল মোংলায় চিংড়ি ঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষ

মাসুদ রানা, মোংলা
মোংলা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় আশির দশক হতেই পানি ও মাটিতে লবণাক্তার তীব্রতা বাড়তে থাকে। এ কারণে ধানের উৎপাদন কমতে থাকায় জমির মালিকরা ঝুঁকে পড়ে চিংড়ি বিশেষ করে বাগদা চাষে। শুরুতে চিংড়ি চাষে লাভবান হলেও প্রাকৃতিক নানা দূর্যোগে বির্পয়ের মুখে পড়ে চিংড়ির উৎপাদন।
এখন চিংড়ি ঘের গুলোতে মাছ নেই, নেই ধানের উৎপাদনও। তাই এ অবস্থায় বিকল্প পেশা ও কর্মসংস্থানের উপায় খুঁজতে চিংড়ি ঘেরের ভেড়ি ও পতিত জমিতে মৌসুমি সবজি চাষে আশার আলো দেখছেন অনেকে। এতে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছেন চাষিরা । জমিতে ধানও নেই, মাছও নেই তাই বিকল্প কর্মসংস্থান এবং পেশার উপর আগ্রহ তাদের।
এদিকে সবজি চাষের এ বিকল্প পেশায় ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে অনেকের। আর্থিকভাবে লাভবানসহ ফিরেছে তাদের স্বচ্ছলতাও ফিরেছে।
উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের কৃষক মোঃ মফিজুল ইসলাম জানান, ঘেরের ভেড়িতে মাচা করে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করছেন তিনি। পানির ওপর মাচা করে তাতে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, করলা ও সিম এবং ভেড়িতে ঢেঁড়শ, কলা ও পেঁপে চাষ করেন এই কৃষক।
নিজের জমিজমা না থাকলেও অন্যের চিংড়ি ঘেরের পতিত জমিতে মৌসুমী সবজি চাষ করেন মোংলার কাইলকাবাড়ি গ্রামের কৃষক রজব আলী। বিভিন্ন প্রকারের সবজি আবাদে এ বছর ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করে ছিলেন তিনি। শুধু মাত্র লাউ বিক্রি করে এ পর্যন্ত লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে তার। আর যে পরিমাণ সবজি চাষ হয়েছে তাতে করে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক ঘের ব্যবসায়ীরা এখন মাছের পাশাপাশি সবজি চাষে ঝুঁকছেন।
তবে এসব কৃষকের অভিযোগ, মৌসুমী এ সবজি চাষে কৃষি বিভাগের নজরদারি ও সহযোগীতা নেই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা অনিমেষ বালা কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে ভোরের পাতাকে তিনি বলেন, মাছের ঘেরে মাচা করে সবজি চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর এ ক্ষেত্রে কৃষকদের নানা রকম পরামর্শ সহ তাদের উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বছর ২শ’ হেক্টর জমিতে মৌসুমি সবজি চাষ হয়েছে।  এ খাতে কৃষকদের কিভাবে সরকারি সহায়তা দেওয়া যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *