শবে বরাত পালন নিয়ে অনিহা

কাজী মোরশেদ আলম

কতিপয় মুসলমান শবে বরাত পালনে অনিহা প্রকাশ করে বলেন, শবে বরতা পালন করা যাবেনা। এটা বড় বিদআত। এ বিদআত থেকে অবশ্যই দুরে থাকতে হবে। গবেষণা করে দেখা গেছে যে, যারা শবে বরাত সম্বন্ধে বিরূপ সমালোচনা করে যাচ্ছে তারা একটি রাজনীতির সাথে জড়িত। দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্র সমাজকে একটি দলের মধ্যে নিয়ে আসার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কী ধরনের ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে তা নিয়ে আছে অনেক সন্দেহ। কেননা তারা কোরআনকে প্রাধান্য দিলেও হাদিসকে তেমন প্রাধান্য দিচ্ছে না। তারা বিদায় হজের ভাষণকে মানতে নারাজ। বিদায় হজে¦র ভাষণে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন তোমরা দুটি জিনিসকে আকড়ে ধরে রাখবে আর তা হলো কোরআন ও হাদিস।

নতুন প্রজন্মের রাজনীতি দল গঠনের লোকরা বলেন, শবে বরাত পালনের কথা হাদিসে নেই। হাদিসে থাকলেও কী না আর না থাকলেও কী। তারাতো হাদিস মানতে রাজিনা। ইসলামের নামে দল গঠন করে মানুষকে ভুলের দিকে পরিচালিত করা হচ্ছে তা কোনো মতেই সহ্য করা হবে না। তারা বলেন, শবে ক্বদরকে অমান্য করার জন্য এ শবে বরাত রাতটির প্রচলন করা হয়েছে। এ ধরনের কথা কে বিশ^াস করবে? শবে বরাতে যারা ইবাদত বন্দেগী করে শবে ক্কদরকে তারা আরো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো রাত বা দিনে যদি কেউ ইবাদত বন্দেগী বেশি করে তাহলেতো কোনো দোষের নয়।

শবে বরাত হোক আর যে রাতই হোক ইবাদত বেন্দগী একটু বেশি করা হলে অলাভতো নেই। তাহলে শবে বরাতকে গুরুত্ব দেয়া হবে না কেন? হাদিসে থাক বা না থাক যেহেতু এ রাতে এবাদত বন্দেগী একটু বেশী করা হচ্ছে তা নিয়ে বিরূপ মাতামাতি করা একদম ঠিক না। অতীতে কিছু লোক হয়তো এ রাতের গুরুত্ব নিয়ে একটু বেশি মাতামাতি করেছেন তা অবশ্য এখন তেমন নেই।

কেউ কেউ বলেন এ শবে বরাতে নাকি কোরান নাজিল হয়েছে তবে এ রকম লেখা এখনো পাইনি। যদি এ ধরনের কথা বলে থাকেন তাহলে তা ভুল। আর এজন্য শবে বরাতকে ছোট করা ঠিক হবে না। অনেক হাদিসে শবে বরাতের কথা উল্লেখ আছে। আর তা অনুসরণ করে শবে বরাতে একটু এবাদত বন্দেগী বেশি করা হলে দোষের নয়। শবে বরাত পালন করা মানে শাবান মাসকে মর্যাদা দেয়া।

শাবান মাসের পরেইতো রমজান। বারোটি মাসের মধ্যে চারটি মাস মর্যাদপূর্ণ। এর মধ্যে শাবান মাস একটি। আর এই শাবান মাসে নফল রোজা, নামাজ, তাসবি তাহলিল করা যেতেই পারে। পুরো শাবান মাসে এবাদত বন্দেগী বেশি করতে হবে। শুধু মাত্র শবে বরাতে নয়। যা হোক শাবান মাসের এক রাত্রকে মুসলমান গুরুত্ব একটু বেশি দিচ্ছে তাতে নেই কোনো দোষ। সরকারও শবে বরাতে সরকারী ছুটি দিয়েছেন।

আর কিছু নামধারী মুসলমান শবে বরাত নিয়ে কটাক্ষ করে হচ্ছে তা আদৌ ঠিক না। আমরা জেনে এসেছি শবে বরাত মুক্তির রজনী। যা শাবান মানের ১৫তম রাত্রকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে শবে বরাত বিশুদ্ধ শব্দ নয় বলে এক শ্রেণির লোকরা বলে থাকেন। শাবান মাসের প্রত্যেক রাতকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিশেষ করে একটি রাতে বেশি করে ইবাদত বন্দেগী করা হচ্ছে তা বাধা দেয়ার এখতিয়ার কারোর নেই। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.) বলেন, যখন অর্ধ শাবানের রাত আসবে তখন তোমরা রাত জেগে ইবাদত করো এবং দিনের বেলায় রোজা রাখো। ইবনে মাযাহ পৃ. ৯৯)।

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, এ রাতে প্রতিটি বস্তুর হিকমতপূর্ণ ফায়সালা হয়ে থাকে।’’ তিনি আরো বলেন, এক রাতে আমি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে হারালাম, কোথাও তাঁকে খুঁজে পাচ্ছি না। ঘর থেকে বের হয়ে দেখলাম জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে অবস্থান করছেন। তিনি আমাকে বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি ভয় পাচ্ছ যে আল্লাহ এবং তার রাসুল তোমার ওপরে অন্যায় করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি আপনার কোনো স্ত্রীর ঘরে অবস্থান করেছেন, অতঃপর তিনি বলেন নিঃসন্দেহে আল্লাহাতায়ালার রহমত ও ফেরেশতা অর্ধ শাবানের রাতে পৃথিবীর আশপাশে অবতীর্ণ হন এবং বনু কালবের মেষপালের পশম পরিমাণের চেয়েও অধিক পরিমাণে তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। (তিরমিযী খ. ১, ) শবে বরাত নামটি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যদিও শাবানের অর্ধেক মাস যা শবে বরাত নামটি প্রচলিত হয়ে গেছে। শবে বরাতে কতিপয় কুসংস্কারও চালু আছে তা অবশ্যই দুর করতে হবে। যা হোক আমরা শবে বরাত অর্থাৎ পুরো শাবান মাসে ফরজ এবাদতের পাশাপাশি নফল এবাদত করবো মন যা চায় বা সামর্থ অনুসারে। আমাদের মাঝে আছে আল্লাহভীতি।

আমরা আল্লাহর ভয়ে, আল্লাহকে সন্তুষ্টি রাখতে ইবাদত বন্দেগী করে যাবো। বিদআত সৃষ্টি করবোনা। আল্লাহ তুমি ভুল ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করো। তবে স্মরণে রাখতে হবে আমাদের মধ্যে বিভিন্ন দল সৃষ্টি হয়ে গেছে।

এমন কয়েকটি দলকে দেখতে পাই তাদের রাজনীতি দলের নামটি ইসলামী নাম। তারা মসজিদে নামাজ পড়েনা, রোজা রাখেনা, হজ¦ করেনা, যাকাত দিচ্ছেনা কিন্তু ইসলামের কথা বলছে। ঈদের দিনে তারা পত্রিকা বিক্রি করে। এ পত্রিকায় ইসলামের নামে প্রবন্ধ লিখে মানুষকে গোমরাহীরি দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

কাজেই খুব সাবধানে থাকতে হবে আমাদের। পরিশেষে বলা যায় যে, শবে বরাত প্রত্যেক মুসলমানদের পালন করা একান্ত দরকার। অনেক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে শবে বরাত ইসলামের যুগ থেকেই চলে আসছে। রাসুলের যুগ থেকেই এ রাত পালন করা হচ্ছে। কিন্তু কতিপয় মুসলমান বলে বেড়াচ্ছেন আবি হুমাইরাহ বাইতুল মুকাদ্দাসে সর্বপ্রথম ৪৪৮ হিজরীতে শবে বরাত চালু করেন তা উল্লেখ আছে।

যদিও কেউ কেউ তাকে বিদআত সৃষ্টিকারী বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু তাকে বিদআত সৃষ্টিকারী বলা ঠিক হবে না। শবে বরাত পালন করা সঠিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আসুন আমরা শাবান মাসের প্রত্যেকটা রাতেই ইবাদত বন্দেগী করতে থাকি। বিশেষ করে শাবান মাসের ১৫ তারিখে যারা একটু বেশি করেন তা দোষের নয়।

কাজী মোরশেদ আলম (এম.এ.বি.এড.ডি.এইচ.এম.এস)
প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ ও হৃদয়ে চাঁদপুর।
হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

সময়নিউজ২৪.কম   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *