শাওন হত্যা মামলায় খুনের স্বীকারোক্তি করলো বড় ভাই

সরকার লুৎফর রহমান,গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শাওন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ। জরিত নিহতের আপন বড় ভাই তানজির আহম্মেদ (৩০) কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 
নিহত শাওন আহম্মেদের  স্ত্রী রোজিনা বেগমের সাথে বড় ভাই তানজির আহম্মেদের প্রেমের সম্পর্ক অটুট রাখতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
জানা যায়,গত ৬ জানুয়ারি কোমরপুর হাটে একটি  ইসলামী জলসা চলাকালে রাত সাড়ে  ৯ টার দিকে খুন হয় উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের কোমরপুর বাজার এলাকার জসিম উদ্দিন সাবু মিয়ার তৃতীয় পুত্র ছাত্রলীগ নেতা সাগর আহম্মেদ শাওন। হত্যার পর নিহত শাওনের লাশ পার্শ্ববর্তী একটি বায়ু গ্যাস প্লান্টের ভিতর লুকিয়ে রাখা হয়। পর দিন ৭ জানুয়ারি নিহতের লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পলাশবাড়ী থানা পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানার ওসি তদন্ত মতিউর রহমানসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের অপর বড় ভাই বেনজির আহম্মেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিকে আসামী করে ৭ জানুয়ারি পলাশবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে মামলা নং – ০৬ এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পলাশবাড়ী থানার দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার এসআই সঞ্জয় সাহা। ১১ জানুয়ারী  চাঞ্চল্যকর এই হত্যা কান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় নিহতের আপন বড় ভাই তানজির আহম্মেদ কে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তানজির স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে পুলিশকে জানিয়েছে, সে দীর্ঘদিন থেকে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রোজিনা কে পছন্দ করে প্রেম নিবেদন করতো।
প্রথমে রোজিনা তাকে পাত্তা না দিলে ও পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।প্রতিনিয়ত তাদের মোবাইলে বিভিন্ন কথাবার্তা হতো।যদি ও তা দৈহিক  সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায় নি। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি ছোট ভাই জানতে পারায় তাকে হত্যা করার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
৬ জানুয়ারি স্থানীয় কোমরপুর বাজারে একটি বিশাল ইসলামী জলসার আয়োজন করা হয়েছিল।বিকেল ৪ টা থেকে জলসার সাউন্ড সিস্টেম মাইকের আওয়াজে গোটা কোমরপুর এলাকা ছিল মুখরিত।সন্ধায়  বড় ভাই তানজির তার নিজ ঘর থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র দা নিয়ে ছোট ভাই শাওন কে খুন করার উদ্দেশ্যে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাখে। দুই ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি হওয়ায় ছোট ভাই শাওনের উপর নজর রাখে বড় ভাই তানজির।
রাত ৯ টার দিকে বড় ভাই তানজির তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই রাখা দেশীয় অস্ত্র (দা) কোমরে লুকিয়ে রাখে।পরে গোপন কথা আছে বলে কৌশলে ছোট ভাই শাওনকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে নিকটবর্তী একটি চাতালের অন্ধকারে চলে যায়।ছোট ভাইকে সামনে দিয়ে বড় ভাই তানজির পিছনে হাটতে শুরু করে।
এসময়  তানজির তার কোমরে থাকা দা দিয়ে আকর্ষিক পিছন থেকে ছোট ভাই শাওনের মাথায় স্বজোরে একটি মাত্র আঘাত করে।শাওন ও মা বলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। এরপর তানজির শাওনের মাথায় পরপর আরো ৩ টি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারপর শাওনের লাশ রেখে আবারো নিজ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে চলে যায় তানজির।
রাত সারে ১০.৩০ মিনিটে আবার’ও ঘটনাস্থলে আসে বড় ভাই খুনি তানজির লাশ লুকিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে। দোকান থেকে নিয়ে আসে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে শাওনের লাশ টেনে হেচড়ে তাতাল সংলগ্ন বায়ু গ্যাস প্লান্ট হাউজে রেখে ইট ভর দিয়ে রাখে হয়। রাত ১১ টার মধ্যে শেষ হয় কিলিং মিশন।ঠান্ডা মাথায় ছোট ভাই শাওনকে খুন করে বড় ভাই তানজির প্রকাশ্যে চলাফেরা করে। যাতে কেউ তাকে সন্দেহ করতে না পারে।
ঘটনার তদন্তে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনি তানজিরকে সনাক্ত করে পুলিশ। ১১ জানুয়ারী পুলিশ কৌশলে নিহতের পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে নিহতের স্ত্রী রোজিনা বেগম স্বীকার করে তাকে প্রেম নিবেদনের কথা পরে তানজির এই লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের স্বিকারোক্তি করেন।
সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *