শিক্ষকের কান্ড, নওগাঁয় জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা.! 

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠনঃ 
নওগাঁর সদর উপজেলার চুনিয়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া সনদে ১১ বছর ধরে চাকরি করছেন সহকারী শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) বিষয়ের শিক্ষক মামুনুর রশীদ। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য এনটিআরসিএ পাঠান প্রতিষ্ঠান প্রধান।
যাচাই-বাছাইয়ের পর তার নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে পত্র পাঠিয়ে ঘটনাটি অবগত করেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সনদে চাকরি করার অপরাধে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ। সে জন্য প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর)  মামলা দায়ের করেছেন, মামলা নং-৪০/২০২০ জি আর নং ৬২৫/২০২০ ধারা ৪০৬,৪২০,৪৬৮ ও ৪৭১।
সরকারি ঘোষণার পর সনদ যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষে ৬ জন্য শিক্ষকদের তথ্য পাঠানো হয় এনটিআরসিএতে। তার মধ্যে ১ জন শিক্ষকের জাল সনদ পাওয়া যায়। সনদ যাচাইয়ে সহকারী শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) বিষয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের  নিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত বলে অতিসম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ১৭৭৭ স্মারকে সনদ যাচাইসংক্রান্ত চিঠি গত ৮ অক্টোবর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষককে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে অবগত করার জন্য।
এনটিআরসিএর প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ব্যাচের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদের মালিক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন পিতাঃ মোজাম্মেল হোসাইন জেলাঃ নোয়াখালী প্রাপ্ত নম্বরঃ আবশ্যিক – ৪০, ঐচ্ছিক – ৫৬। দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদের রোল নম্বর ৭১২০১২৬৪, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭০০৬১১২ যাচাইকালে সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়।
এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয়ে ভুয়া সনদে মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ২০০৯ সালের ৪ মে সহকারী মৌলভী পদে নিয়োগ লাভ করেন। এর পর ২০১০ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি এমপিওভুক্ত হন। এমপিওভুক্তির পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে অবৈধপন্থায় তিনি সরকারি আর্থিক সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন।
প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয় এনটিআরসিএতে। সনদ যাচাইয়ে সহকারী শিক্ষক ( ইসলাম শিক্ষা) শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ১৭৭০ নং স্মারকে সনদ যাচাই সংক্রান্ত চিঠি গত ৮ অক্টোবর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষককে পত্র  মারফত এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে: অবগত করার জন্যও বলা হয়।
এবিষয়ে চুনিয়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর আলম জানান, সহকারী শিক্ষক ( ইসলাম শিক্ষা) মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের নিবন্ধন সনদ ভুয়া সংক্রান্ত বিষয়টি এনটিআরসিএর ০৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে পাঠানো যাচাই রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে পারি। ঐ জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সত্যতা নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন জানান, চুনিয়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর আলম অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *