শ্রীনগরে মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার

অনলাইন ডেস্ক:

কাশ্মীরের শ্রীনগরে অবস্থিত বিখ্যাত জামা মসজিদের ফটক বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। এজন্য নগরীর প্রধান মসজিদে জুমার নামায আদায় করতে পারেনি মুসলমানরা। তবে অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট মসজিদে নামায আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

কিন্তু অনুমতি মিললেও সেসব মসজিদের আশপাশের অঞ্চলে প্রচুর নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে নিজের বাড়িতে যেতে পারলেন না রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ। গত বৃহস্পতিবার ভোরে শ্রীনগর বিমানবন্দরে নামলে তাকে সেখানেই থামিয়ে দেয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই পারেননি জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী। পরে বিকাল সাড়ে ৩ টায় বিমানে তাকে দিল্লী ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেস নেতা।

এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পাকিস্তান ও ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। গত বৃহস্পতিবার তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতেও দেশদুটিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। গুতেরেস তার আহ্বানে সিমলা চুক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েকদশক পুরনো সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, কোনো সমস্যা ছাড়াই নামাজ আদায় সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে কাশ্মীরের অচলাবস্থা অনেকটাই শিথিল করা হতে পারে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার অবসান ঘটানো এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্কতাস্বরূপ হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাশ্মীর উপত্যকায় কড়া নজর রাখছে। খবর রয়টার্স, এএফপি, এনডিটিভি, পার্স।


কাশ্মীরে নিজের বাড়িতে যেতে পারলেন না গুলাম নবী


জম্মু-কাশ্মীরে নিজের বাড়িতে যেতে পারলেন না রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে শ্রীনগর বিমানবন্দরে নামলে তাকে সেখানেই থামিয়ে দেয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই পারেননি জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় বিমানে তাকে দিল্লী ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেস নেতা।
কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা শ্রীনগর বিমানবন্দরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, প্রতিবারই সংসদ অধিবেশন শেষে আমি নিজের বাড়ি ফিরি। এজন্য আমি কারও অনুমতি নিইনি। আমি ওখানে যাচ্ছিলাম মানুষের দুরবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়াতে।’ নিজের বাড়িতেই ফিরতে না পারায় অসন্তুষ্ট আজাদ বলেন, কাশ্মীরবাসী কেন্দ্রের এ পদক্ষেপে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। কারণ সারা অঞ্চলে কোনো মোবাইল, ইন্টারনেট বা সংযোগ পরিষেবা নেই।


তার অভিযোগ, এই প্রথম কোনো রাজ্যে আইন পাস হল আগে সেখানে কারফিউ জারি করে। বুধবার শ্রীনগরের রাস্তায় কাশ্মীরি যুবকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদষ্টো অজিত দোভালের গল্প করা এবং খাওয়ার ছবিটিও প্রশাসনিক ভাঁওতা বলে বৃহস্পতিবার কটাক্ষ করেছেন আজাদ।
অর্থের বিনিময়ে ওই ছবি তোলা হয়েছে বলে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেছেন, আপনি টাকা দিয়ে যে কাউকে কিনতে পারবেন এবং তাকে দিয়ে ওটা করাতে পারবেন।


লোকসভা কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করেছিলেন, আমরা কাশ্মীরিদের এগিয়ে নিয়ে যাব আলিঙ্গন করে। বুলেট দিয়ে নয়। কিন্তু বর্তমানে কাশ্মীরের অবস্থা কনসেনস্ট্রেশন ক্যাম্পের মতো। মোবাইল কানেকশন নেই, ইন্টারনেট নেই, অমরনাথের তীর্থযাত্রীরা নেই। কী হচ্ছে ওখানে?’
গুলাম নবী আজাদকে ঢুকতে না দেয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের বক্তব্য, আমরা সব পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। উনি (গুলাম নবী আজাদ) কাশ্মীরে ঢুকলে সমস্যা হতে পারে। ওকে নিরাপদে রাখার দায়িত্ব রাজ্য প্রশাসনের। তাকে নিরাপদ স্থানে রাখবে নাকি দিল্লি ফেরত পাঠাবে, সম্পূর্ণ রাজ্য প্রশাসনের বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *