সয়াবিন চাষে কৃষক রেজাউলের চোখে সম্ভাবনার ঝিলিক

সরকার লুৎফর রহমান,গাইবান্ধা:
একজন আদর্শ কৃষক রেজাউল করিম। নানা ধরনের ফসল চাষ করাই তার নেশা ও পেশা। এবার দেড় একর জমিতে চাষ করেছেন সয়াবিন। সোনার ফসল সয়াবিন চাষে এবার সাফল্য এসেছে তার। সয়াবিনের সবুজ চারাগাছ হাতছানি দিয়ে ডাক দিয়েছিল গত বছর। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এবার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা রেজাউলের চোখে-মুখে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের মৃত আবু হোসেনের ছেলে রেজাউল করিম। এ্যাফেক্স কোম্পানি লিমিটেডের পরামর্শে গত বছর ৪০ শতক জমিতে পরিক্ষামূলকভাবে সয়াবিন চাষ করেছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে এ ক্ষেত থেকে ১১ মণ সয়াবিন ফসল উৎপাদন হয়। প্রতিমণ সয়াবিন বিক্রি করে পান ১২শ’ টাকা। তবে ফসল উৎপাদনে খরচ হয়েছিল ৪ হাজার টাকা। ফলে সয়াবিন চাষ করে অনেকটাই লাভবান হন তিনি। সেই লাভের আশা নিয়ে এবারও রেজাউল করিম তার নিজস্ব দেড় একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেছেন। ফসলের মাঝামঝি সময়ে এ ক্ষেতে এখন চারিদিকে সবুজের সমারোহ দেখা দিয়েছে। রয়েছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।
কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, রবি ও খরিপ দুই মৌসুমেই সয়াবিন বপন করা যায়। রবি মৌসুমের পৌষ মাসে বীজ বপন করা ভাল। বর্ষা মৌসুমের শ্রাবণ থেকে মধ্য ভাদ্র বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। সয়াবিন সারিতে বা ছিটিয়ে বপন করা যায়। তবে সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রবি মৌসুমে ১২ ইঞ্চি এবং খরিপ মৌসুমে ১৬ ইঞ্চি রাখতে হয়। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২ থেকে ২.৫ ইঞ্চি রাখতে হয়।
সয়াবিন চাষী রেজাউল করিম জানান, সয়াবিন চাষ বেশ লাভজনক। অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচ কম ও উৎপাদন বেশী। বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) খরচ পড়ে ৩-৪ হাজার টাকা। অথচ ফসলের মান ভাল হলে বিঘা প্রতি ৯ মণ সয়াবিন উৎপাদন করা সম্ভব। যার মূল্য দাড়ায় প্রায় ১২-১৪ হাজার টাকা। তবে রেজাউল করিমের অভিযোগ এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা কিংবা পরামর্শ পান না।
এ্যাফেক্স কোম্পানি লিমিডেটের প্রোডাকশন অফিসার আজিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের সহযোগিতায় এবার গাইবান্ধা জেলায় দেড়শ’ একর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। কাঙ্খিত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কৃষকদের উৎপন্ন সয়াবিন ওই কোম্পানি ক্রয় করেন বলে জানা তিনি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া জানান, খাদ্য হিসেবে সয়াবিনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ হচ্ছে এতে শতকরা ৪০ ভাগের অধিক আমিষ এবং ২০-২২ ভাগ তেল রয়েছে। মানুষের সু-স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে সয়াবিনজাত প্রোটিনের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। সয়াবিন তরকারী ছাড়াও দুধ ও বিস্কুট তৈরীতে ব্যবহৃত হয় এবং পশু খাদ্য হিসেবে যাথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ফলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের অনেক চাষীই এখন সয়াবিন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। 
সময়নিউজ২৪.কম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *