সহযোগীতায় এগিয়ে আশুন প্লিজ-শীত নিবারনের জন্য বৃদ্ধা খোঁদেজা বেওয়ার আকুতি..! 

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠনঃ
শীত নিবারনের জন্য বৃদ্ধা খোঁদেজা বেওয়ার আকুতি..!বাবারা আমারে একটা লেপ দেবে বাবা। আমারে একটা লেপ দিও আর কিছু চাই না।এরপরই থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, আমার খাওয়ারই কষ্ট, ওষুধ কেনার টাকা নেই। মাসে ৫শ টাকার ওষুধ কিনেও হয় না বাবা। কিন্তু টাকার অভাবে আর কিনতেও পারি না। আমার চোখের সমস্যা, পেটে সমস্যা। পেটের পীড়ায় চিকিৎসা ছাড়া তিন দিন জ্ঞানহারা ছিলাম।সাহায্য করার মতো দুনিয়াতে কোনো স্বজন নেই আমার।এরিমাঝে স্বামীর বাড়ি থেকে বিধবা মেয়ে এসেছে আমার কাছে, একমাত্র মেয়েকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে বেঁচে আছি মাও মেয়ে। চোঁখ যখন ভালো ছিলো টানা ২৫- ২৬ বছর শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে মা- মেয়ে জীবিকা চালিয়েছি। এখন আমি অক্ষম, মেয়ে অকাল বিধবা। তাই লোকজনের সাহায্য নিয়ে জীবন চালাই বাবারা।
এমন জীবন কাহিনীর বাস্তব কথাগুলো সংবাদকর্মীর কাছে বলছিলেন নুইয়ে পড়া বৃদ্ধা খোদেজা বেওয়া ৮৪। খোদেজা বেওয়া পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাঙ্গহাটি গ্রামের মৃত শাহাদত আলী খাঁনের মেয়ে।খোদেজা বেওয়া ১৯৫২ ইং সালে ম্যাট্রিক (এসএসসি) পাস করেন কৃতিত্বের সঙ্গে। শৈশবে পাবনার বেড়া উপজেলার
লক্ষ্মীপুর-ঝাউকাদা গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে নাটিয়াবাড়ী ধোবাকোলা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি।সেই বিদ্যালয় থেকেই তিনি ম্যাট্রিক পাস করেছিলেন। ক্লাসের মেধাবী ছাত্রী হিসেবে তার সুনাম ছিল বলেও জানান বৃদ্ধা খোদেজা বেওয়া নিজেই।
ওই সময়ে ম্যাট্রিক পাস করলে তো চাকরির অভাব ছিল না। তাহলে চাকরি করলেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বনেদি ঘরের মেয়েদের দিয়ে চাকরি করানো হতো না। তাই তারও চাকরি করা হয়নি। সে সময়ে তার বাবার বাড়ির গ্রামের আঃ সাত্তার মিয়ার সাথে খোদেজার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি মেয়েও জম্ননেয়। কিন্তু তার স্বামী আরও ২-৩টা বিয়ে করার পর খোদেজাকে সে সময় তালাক দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই জীবনযুদ্ধ শুরু হয় খোদেজার। খোদেজা সে-সময়-ই দুই বেলা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের ও তার একমাত্র মেয়ের পেটের ভাত জোগাড় করতেন খোদেজা। শুধু বাংলা-ইংরেজি নয়, খোদেজা বেওয়া আরবি শিক্ষাও দিয়েছেন বহু শিশুদের বলেও জানান তিনি।
এখন তিনি বয়সের ভারে নুইয়ে পরেছেন লাঠি ছাড়া চলতেও পারেন না। সার্টিফিকেট হিসাবে জন্মসাল ১৯৩৭। সেই খোদেজা বেওয়ার বয়স ৮৪ বছর। এই বয়সেও তিনি নামাজ-রোজা করেন। পবিত্র কোরআন পাঠ করেন। তবে অর্থ অভাবে চোঁখের চিকিৎসা করাতে না পারার কারনে খুব কষ্টের মধ্যেই দিনের আলোতে যেটুকু পারেন পড়েন কিন্তু রাতে দেখতে না পাওয়ায় পড়তে পারের না।আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কে আমাকে ডাক্তার দেখাবে? কে আমাকে চশমা বা চোখের ড্রপ কিনে দেবে? আমার তো এদুনিয়াতে কেউ নাই রে বাবা..!
অনেক আগে এক ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক ওষুধ কিনতেই খোদেজা বেওয়ার সাধ্যে কুলায় না, তার উপর তিনি ও তার মেয়ের খাবার সব মিলিয়ে কষ্টের মধ্যে খেয়ে না খেয়ে দূর্বীসহ জীবন যাপন করছেন বৃদ্ধা খোদেজা বেওয়া বলেই ফের তিনি আবার চলতি শীত নিবারনের জন্য গরম কাপড় এর আবদার করেন।
খোদেজা বেগম দুঃখ প্রকাশ করে আরো বলেন- অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়! বলেই তিনি বিরবির করে বলতে শুরু করেন, একমাত্র অবলম্বন মেয়েটির বিয়ে দিয়েছিলাম বাসের সুপার ভাইজারের সাথে। বিয়ের কয়েক বছর মধ্যেই জামাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মেয়ে হয়ে যায় বিধবা,  ওঠেন এসে আমার ঘড়ে। আমি অল্প বয়সে স্বামী পরিত্যক্তা আর আমার মেয়ে অল্প বয়সে হয়েছেন বিধবা। বৃদ্ধা খোদেজা বেওয়ার পাশে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসবেন সামাজিক সংগঠন বা কোন দানবীর মানবিক মানুষ এমন প্রত্যাশা রইল।
সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *