সারিয়াকান্দিতে চালু হয়েছে মা ফাতেমা নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

পাভেল মিয়া,সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
অবশেষে চালু হলো সারিয়াকান্দির মা ফাতেমা (রাঃ) মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। গত ২১ মাস ধরে কেন্দটি বন্ধ ছিল।বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রটি চালুর উদ্বোধন করেছেন স্হানীয় সাংসদ সাহাদারা মান্নান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা পারভিন নাহারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনূর বেগম, কেন্দ্রটির সিনিয়র ট্রেনিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, ইউসেফ বাংলাদেশের রাজশাহী বগুড়া জোনের রিজিওনাল ম্যানেজার শাহিনূর আহম্মেদ, দেলোয়ার হোসেন দুলাল প্রমুখ।
এতে প্রথম ব্যাচে মোটরসাইকেল মেকানিক্সে ১০ জন, কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সে ২০ জন,  ইলেক্ট্রিশিয়ানে ২০ জন নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের চাকুরির ব্যবস্হা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০০০ সালের ১ জানুয়ারী সারিয়াকান্দিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে মা ফাতেমা মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ২০০৬ সালে কেন্দ্রটি রাজস্ব খাতের অন্তর্ভুক্তি লাভ করে। গত ২০১৪ সালের ১১ জুলাই সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান গ্রামীণ অবহেলিত মহিলাদের জন্য সারিয়াকান্দি মা ফাতেমা (রা) মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উদ্বোধন করেন সি এন জি চালিত থ্রি হুইলার ড্রাইভিং এবং মোটর সাইকেল মেকানিক্স প্রশিক্ষণ কোর্স।কেন্দ্রটিতে গ্রামীণ দরিদ্র, স্বামী পরিত্যাক্ত, বাল্যবিয়ের শিকার মহিলাদের বিভিন্ন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকুরির ব্যবস্হা করা হয়।অনেক অসহায় নারীরা এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্বনির্ভর হয়েছেন। এ পর্যন্ত কেন্দ্রটি হতে ১ হাজার ৫০০ জন নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২৭৯ জন নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে ২১০ জন নারী চাকুরি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে মোটর সাইকেল সার্ভিস মেকানিক্সে ৯২ জন প্রশিক্ষণ শেষ করে চাকুরি পেয়েছেন ৮২ জন। কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সে ৯৫ জন প্রশিক্ষণ শেষে চাকুরি পেয়েছেন ৬১ জন। ইলেক্ট্রিশিয়ান কোর্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন ৯২ জন চাকুরি পেয়েছেন ৬৭ জন। চাকুরিরত নারীরা সবাই প্রাণ আর এফ এল গ্রুপ এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন। ৩ মাসের প্রশিক্ষণকালীন সময়ে থাকা খাওয়া ফ্রিসহ ৯০০ টাকা প্রশিক্ষণকালীন ভাতা পান প্রশিক্ষণার্থীরা। কেন্দ্রটির ১ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ জনবল কাঠামো  ১৩ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন বিভিন্ন জেলায় ডেপুটেশনে রয়েছেন।
কেন্দ্রটি করোনাকালীন লকডাউনের কারণে গত ২১ মার্চ ২০২০ সাল থেকে বন্ধ ছিল। তথ্যগুলো জানিয়েছেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইলেক্ট্রিশিয়ান মাহফুজুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *