সেই ধর্ষিত শিশু আছিয়া আর নেই

আব্দুল  লতিফ তালুকদারঃ

টাঙ্গাইলের কা‌লিহাতী‌তে ধর্ষ‌ণের এক বছর পর মারা গে‌ছে ৮ বছর বয়সের শিশু আছিয়া। সোমবার (১৭ জুন) ভোররাত তিনটার দিকে  ঢাকায় আত্নীয়র বাসায় সে মারা যায়। ধর্ষণের কারণে শারীরিক অবস্থার অবন‌তি হওয়ায় দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান ক‌রে চি‌কিৎসা নি‌চ্ছিল শিশু‌টি।

এর আগে গত বছর ৪ জুন কালিহাতী উপ‌জেলার মালতী গ্রামের তায়েজ আলীর ছেলে মাহবুব বি‌ভিন্ন প্র‌লোভন দে‌খি‌য়ে আছিয়া‌কে ডেকে তা‌দের বা‌ড়ি‌তে নি‌য়ে যায়। ঘ‌রের একটি কক্ষে তা‌কে ধর্ষণ ক‌রে। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হ‌য়ে পড়‌লে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হয়। প‌রে শিশুটি ধর্ষ‌ণ হ‌য়ে‌ছে ব‌লে চিকিৎসক জানায় প‌রিবার‌কে। 
এরপর ৯ জুন আছিয়ার বাবা আশরাফ আলী বাদী হ‌য়ে মাহবুবকে আসামি ক‌রে ধর্ষণ মামলা দায়ের ক‌রেন।ধর্ষ‌ণের ঘটনা ধামাচাপা দি‌তে স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রতিনিয়ত চাপ সৃ‌ষ্টি ক‌রে আসছিলেন । প‌রে পু‌লিশ ধর্ষক মাহবুব‌কে গ্রেফতার ক‌রে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।  কিছু‌দিন জেল খেটে পরে তিনি জা‌মি‌নে বের হ‌য়ে আসেন।

শিশু‌ আছিয়ার মামা  হযরত আলী খান ব‌লেন, ‘ঢাকায় আত্মী‌য়ের এক‌টি বাসায় সোমবার ভোর রা‌তে আছিয়া পেটে ব্যাথা অনুভব ক‌রে ছটফট কর‌তে থা‌কে। প‌রে হাসপাতা‌লে নেওয়ার আগেই সে মারা যায়। সকালের দি‌কে তা‌কে  উপ‌জেলার মালতী গ্রা‌মের বাড়িতে  আনা হয়। এরপর স্থানীয় ইউপি  চেয়ারম্যান শুকুর মাহমুদ বা‌ড়ি‌তে এসে তার দাফ‌নের ব্যবস্থা গ্রহণ কর‌তে ব‌লেন।

টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা‌লের অন‌স্টোপ ক্রাইসিস সেন্টারের প্রোগ্রাম অফিসার (পিও) মো. বাইজিদ জানান, সে সময় ধর্ষ‌ণের ফ‌লে আছিয়ার ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। এতে যৌনা‌ঙ্গ ও মলদার  ছি‌ড়ে গি‌য়ে এক হ‌য়ে যায়। এতে আট‌টি সেলাই করার পরও তার শারী‌রিক অবস্থা অবন‌তি হওয়ায় ওই সময় তা‌কে ঢাকা মে‌ডি‌কেল কলেজ  হাসপাতা‌লে পাঠা‌নো হয়। টানা এক বছর ঢাকায় অবস্থান ক‌রে চি‌কিৎসা নি‌চ্ছিল শিশু‌টি।

কা‌লিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হো‌সেন ব‌লেন, ‘ধর্ষ‌ণের ঘটনায় সে সময় মাহবুবকে  গ্রেফতার ক‌রে কো‌র্টে পাঠানো হ‌য়ে‌ছিল। পু‌লি‌শের প‌ক্ষ থে‌কে আদাল‌তে চার্জশিট দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। বর্তমা‌নে মামলা‌টি বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে মামলার বাদি পক্ষের লোকজনকে মামলা  তুলে নেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *