সেই বালিশ কাণ্ড; হিসাব নেই ৩৬ কোটি টাকার, প্রতিবেদনে যা আছে

অনলাইন ডেস্ক:

রূপপূর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য বিছানা, বালিশ ও আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে ক্রয় দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। হিসাবে মালামালের প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। এই টাকা সরকারের কোষাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

‘বালিশকাণ্ড’ বলে পরিচিত প্রকল্পের ক্রয়কৃত মালামালের প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে।যা সরকারকে ফিরিয়ে দেয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।সোমবার এক হাজার পৃষ্ঠার অধিক এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে।তদন্ত প্রতিবেদনটি আগামী ২১ জুলাই হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হবে। বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রতিবেদনটির শুনানি করবেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্কলন প্রস্তুত বা প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতরা হলেন- পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তাহাজ্জুদ হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তারেক, উপসহকারী প্রকৌশলী আহম্মেদ সাজ্জাদ খান, মো. রুবেল হোসাইন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. ফজলে হক, সুমন কুমার নন্দী, মো. রফিকুজ্জামান, মো. জাহিদুল কবীর, মো. শাহীন উদ্দিন, মো. আবু সাঈদ ও মো. শফিকুল ইসলাম।

প্রাক্কলন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুপারিশের সঙ্গে জড়িতরা হলেন- রাজশাহী সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম জিল্লুর রহমান, পাবনা সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহা, পাবনা জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম, মোরশেদা ইয়াছবির, খন্দকার মো. আহসানুল হক, সুমন কুমার নন্দী ও মো. রওশন আলী।

প্রাক্কলন যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা হলেন- রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবর রহমান ও মো. শফিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী তানজিনা শারমিন, মো. নুরুল ইসলাম (এলপিআর), মো. আশরাফুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. মকলেছুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী শাহনাজ আকতার ও মো. আলমগীর হোসেন।

বিল প্রদানের সঙ্গে সম্পৃক্তরা হলেন- পাবনা জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শফিউজ্জামান, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তারেক, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল কবীর, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রওশন আলী, মো. রফিকুজ্জামান, মো. শফিকুল ইসলাম, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তাহাজ্জুদ হোসেন, আহম্মেদ সাজ্জাদ খান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম।

বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা হলেন- পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম, রাজশাহী সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম জিল্লুর রহমান, পাবনা সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহা, রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবর রহমান ও মো. শফিকুর রহমান ও প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম (পিআরএল)।

দরপত্র প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও অনুমোদনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা হলেন- পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম, রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবর রহমান ও মো. শফিকুর রহমান, পাবনা জোনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তাহাজ্জুদ হোসেন, রাজশাহী সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম জিল্লুর রহমান, পাবনা সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম (পিআরএল)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে উল্লেখিত ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি। এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে ১৯ মে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রীনসিটি আবাসন পল্লীর বিছানা, বালিশ, আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে কেনা ও তা ভবনে তোলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *