সেই হিন্দু পরিবারের খবর রাখে কেউ

 

উজ্জ্বল রায় 

হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের ১১ জনকে এখন আর কেউ খবর রাখে না বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ন্যাক্কারজনক ও নৃশংস ঘটনা ঘটে যাওয়া বাঁশখালীর ১১ জন হিন্দুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার কোনো কূলকিনারা হয়নি দীর্ঘ ১৬ বছরেও। ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর আজকের এই দিনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর শীলপাড়ায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ওই ঘটনায় চার দিনের শিশু কার্তিক শীল সহ ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা।

এই হত্যাকা-সংঘটিত হওয়ার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের হাইকমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ ও নিন্দা জানালেও এখন আর কেউ খবর রাখে না। মামলার বাদী এবং সেই পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ডাঃ বিমল শীল আজও বিচারের আশায় আদালতের দুয়ারে নিরন্তর ছুটে চলেছেন। সেইদিন রাতে বাঁশখালীতে পুড়িয়ে মারা হয় বিমল শীলের বাবা তেজেন্দ্র লাল শীলকে (৭০)।

একই ঘটনায় মারা যান বিমলের মা বকুল শীল (৬০), ভাই অনিল শীল (৪০), অনিলের স্ত্রী স্মৃতি শীল (৩২), অনিলের তিন সন্তান রুমি শীল (১২), সোনিয়া শীল (৭) ও চার দিন বয়সী কার্তিক শীল। বিমল শীলের কাকাতো বোন বাবুটি শীল (২৫), প্রসাদি শীল (১৭), এনি শীল (৭) এবং কক্সবাজার থেকে বেড়াতে আসা তাঁর মেসো দেবেন্দ্র শীল (৭২)। পল্লিচিকিৎসক বিমল শীল সেদিন লাফ দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।

ঘটনার পর থেকে তিনি বাড়ি ছেড়ে শহরে থাকছেন। খালি পড়ে আছে ভিটেটি। ববর এই ঘটনার কথা মনে পড়লে এখনো চোখের জল আমি ধরে রাখতে পারিনা। নিলয় চক্রবর্তী বলেন, আমরা এই জঘন্য হত্যাকা-ের বিচার পাইনি বা বিচারের আশাও করিনি, কিন্তু আওয়ামী লীগের বিগত ১১ বছরের শাসনামলেও ইতিহাসের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার সম্পন্ন না হওয়া বর্তমান সরকারের জন্য কি লজ্জাজনক বিব্রতকর। 

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *