স্প্যানিশ লা লিগার চলতি মৌসুমটা ঠিক প্রত্যাশামাফিক কাটেনি গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা

অনলাইন ডেস্কঃ

 

করোনা লকডাউনের পর খেলা দশ ম্যাচে ৩ ড্র ও ১ পরাজয়ে হাতছাড়া হয়েছে শিরোপা। ফলে লিগের ৩৮তম অর্থাৎ শেষ ম্যাচটি ছিল নেহায়েত নিয়মরক্ষার। আর এ ম্যাচটিতেই কি না নিজেদের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিলো বার্সেলোনা। মেসি-সুয়ারেজ-আনসু ফাতিদের অনলে পুড়েছে দুর্বল আলাভেস।

চলতি মৌসুমের প্রায় পুরোটা সময়ই প্রতিপক্ষের মাঠে ধুঁকেছে লা লিগার গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। অথচ তারাই কি না নিজেদের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে গিয়ে দিলো পাঁচটি গোল। মেসির জোড়া এবং ফাতি, সুয়ারেজ ও সেমেডুদের গোলে আলাভেসের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেছে বার্সেলোনা।

স্প্যানিশ লা লিগার চলতি মৌসুমটা ঠিক প্রত্যাশামাফিক কাটেনি গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ মৌসুমের লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা এবার শিরোপা খুইয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। লিগ শেষ করেছে পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে।

তবে বার্সা অধিনায়ক লিওনেল মেসি ঠিকই গড়েছেন রেকর্ড, ধরে রেখেছেন নিজের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব। টানা চতুর্থ মৌসুমে জিতেছেন স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি ট্রফি। এছাড়াও ভেঙেছেন লা লিগার এক মৌসুমে সর্বোচ্চ এসিস্টের রেকর্ড।

রোববার রাতে লিগের শেষ ম্যাচেও রেকর্ডের খাতায় ঝড় তুলেছেন মেসি। আলাভেসের মাঠ থেকে ৫-০ গোলে জিতে আসা ম্যাচে মেসি করেছেন জোড়া গোল, করিয়েছেন একটি। এর সুবাদেই হয়েছে জোড়া রেকর্ড, এছাড়া ভাগ বসিয়েছেন আরেকটি রেকর্ডে।

প্রথমটি এসিস্টের। ম্যাচের ২৪ মিনিটে মেসির এসিস্টে গোল করেন আনসু ফাতি। যার মাধ্যমে এবারের লিগে মেসির এসিস্ট সংখ্যা বেড়ে হয় ২১। যা কি না লা লিগার এক মৌসুমে সর্বোচ্চ এসিস্টের রেকর্ড। এর আগে ২০০৮-০৯ মৌসুমে এক আসরে সর্বোচ্চ ২০ এসিস্টের রেকর্ড গড়েছিলেন মেসির সাবেক সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ।

এসিস্ট দিয়ে ম্যাচ শুরু করা মেসি পরে করেন জোড়া গোল। যার ফলে লিগে তার গোলসংখ্যা হয় ২৫, যা কি না নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী করিম বেনজেমার চেয়ে ৪টি বেশি। অপেক্ষা ছিলো রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ শেষ হওয়ার। যে ম্যাচে গোলের দেখা পাননি ফ্রেঞ্চ তারকা বেনজেমা।

ফলে নিশ্চিত হয়ে যায় মেসির সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব। যার ফলে টানা চতুর্থ এবং সবমিলিয়ে রেকর্ড সপ্তম পিচিচি ট্রফি জেতেন মেসি। লা লিগার ইতিহাসে টানা চার মৌসুমে পিচিচি ট্রফি জেতার রেকর্ড রয়েছে রিয়ালের দুই কিংবদন্তি আলফ্রেড ডি স্টেফানো এবং হুগো সানচেজের।

সর্বপ্রথম ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে চার আসরে পিচিচি জেতার রেকর্ড গড়েন রিয়াল মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ডি স্টেফানো। পরে এই রেকর্ডে ভাগ বসান মেক্সিকোর সাবেক স্ট্রাইকার হুগো সানচেস। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং পরের তিন আসরে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পিচিচি জেতেন তিনি।

এদিকে ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে টানা এই ট্রফি জিতে চলেছেন মেসি। পরের মৌসুমে তার সামনে সুযোগ থাকবে ডি স্টেফানো এবং হুগো সানচেজকে পেছনে টানা পাঁচ মৌসুমে পিচিচি জেতার রেকর্ড গড়ার।

টানা চার মৌসুমে পিচিচি জেতার রেকর্ডের দুই অংশীদার থাকলেও, মেসির সাত আসরে পিচিচি জেতার রেকর্ডে নেই আর কেউ। ২০০৯-১০, ২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ মৌসুমে জেতার পর এবার জিতলেন টানা চারবার। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ছয়বার পিচিচি জেতার রেকর্ড গড়েছিলেন তেলমো জারা। সেটিই এবার নিজের করে নিলেন মেসি।

পিচিচি ট্রফি জেতা সাত আসরে মেসির পরিসংখ্যান

২০০৯-১০ : ৩৫ ম্যাচে ৩৪ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ০.৯৭১
২০১১-১২ : ৩৭ ম্যাচে ৫০ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ১.৩৫১
২০১২-১৩ : ৩২ ম্যাচে ৪৬ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ১.৪৩৮
২০১৬-১৭ : ৩৪ ম্যাচে ৩৭ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ১.০৮৮
২০১৭-১৮ : ৩৬ ম্যাচে ৩৪ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ০.৯৪৪
২০১৮-১৯ : ৩৪ ম্যাচে ৩৬ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ১.০৫৬
২০১৯-২০ : ৩৩ ম্যাচে ২৫ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ০.৭৫৮

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *