সড়কে গরু বাজার পশু সংকট; দাম বেশী

আবু সুফিয়ান রাসেল।।
কুমিল্লায় গরুর মূল্য বেশী বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এ বছর ভারতীয় গরু প্রবেশ না করায় যথাযথ দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা।

সরকারি সূত্র মতে, ৬০ হাজারেরও বেশী কোরবানীর পশুর সংকট রয়েছে কুমিল্লায়। অন্যদিকে জেলায় কয়েকটি স্থানে সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাঁট বসানোর খবর পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর নেউরা গরু বাজার সম্পূর্ণ সড়কের উপরে গড়ে তুলা হয়েছে। স্থানীয়
কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন জানান, সড়কে বাজারের কারণে জনগনের ভোগান্তি হয়।
ইপিজেডকর্মী, হাসপাতালের রোগী ও এলাকাবাসীকে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হয়।

নেউরা গরু বাজার কমিটির সদস্য এহসানুল হক পলাশ বলেন, বিমান বন্দর সড়কটি অনেক চওয়া। ফলে তেমন সমস্যা হয় না। এ ছাড়াও আমাদের কর্মীরা আছে। তারা যান চলাচলে সহযোগীতা করে থাকে।

সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়–য়া জানান, নেউরা বাজারটি ১৯ নং ওয়ার্ডে অস্থায়ী বাজার। কুসিক এলাকায় হলেও এটার কোন অনুমোদন নেই। প্রতি বছর এ বাজারের
বর্জ্য রাস্থায় থাকে আর এগুলোতে স্থানীয়দের সমস্যা হয়। দেখা যায়, ঈদের পর সিটি কর্পোরেশনকে এগুলো পরিষ্কার করতে হয়।

বালুতুপা বাজারটি পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়কে। ফলে চকবাজার টার্মিনাল থেকে
যাতায়াতের তিনটি সার্ভিসের শতশত বাসসহ অন্যান্য যান চলাচলে বাঁধা গ্রন্থ হচ্ছে।

তৌহিদ হোসেন নামে একজন দোকানী জানান,গরু বিক্রির জন্য মূলত বালুতুপা বাজারে হওয়ার কথা কথা। মহাসড়কে না আনলেও হয়। গরুও তেমন বেশী না। বড় বাজার বুঝাতে পরিকল্পিত ভাবে যানজট তৈরি করছে বাজার কমিটি। বালুতুপা চৌমহনি থেকে বাখরাবাদ মোড় পর্যন্ত যানজট তৈরি হয় গরু বাজারের কারণে।

বউয়ারা মাদরাসার মাঠে পশুর হাঁট বসানো হয়েছে। মাদরাসার একজন সহকারি শিক্ষক
বলেন, মাঠে তেমন পশু নেই। এছাড়া এখানে শুধু ছাগলের হাঁট রয়েছে। যা খেলার মাঠের তেমন কোন সমস্যা হবে না। এ বাজারের লাভের অংশ মাদরাসার ফান্ডে জমা হয়।

সদরের জগন্নাতপুর ইউনিয়নের নাগরিক আবদুস সালাম মিয়া জানান, বাজগড্ডা বাজারটি সড়কের উপর কিছু অংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফলে এলাকার মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এখানে বিকল্প কোন রাস্তা নেই।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃমামুনুর রশিদ মামুন বলেন, বলুতুপা বাজারটি
সড়কের পাশে তেমন সমস্যা হয় না। মূল সড়ক থেকে প্রায় ১০পিট ভিতরে আছে। সাধারণত রাস্তার পাশে গরু বাজার হওয়ায় কিছুটা স্লো। তবে তেমন সমস্যা নেই, আমি নিজে গিয়ে বিকেলে দেখে
এসেছি।

বাজারের আইনশৃংখলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, ক্রেতার সংখ্যা এখনো বাজারে কম। ক্রেতাদের অভিযোগ বাজারে গরুর দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশী।

বিবির বাজারের বাজারের গরু ব্যবসায়ী ও খামারি রিপন সরকার বলেন, গো-খাদ্যের দাম বেশী। শ্রমিকদের মুজুরি বেশী। প্রয়োজনীয় আসবাবের ট্রেক্স-ভ্যাটের ফলে গরুর খামার করা ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবু কাউছার নামে একজন ক্রেতা জানান, গরুর দাম বেশী। ঢাকা-কুমিল্লার একাধিক বাজার ঘুরে
দেখেছি। ঢাকা থেকে কুমিল্লায় দাম বেশী। হাসিল ও বেশী রাখা হয়।

ভোক্ত অধিদপ্তর কুমিল্লা জেলার সহকারি পরিচালক মো.আছাদুল ইসলাম জানান, গরু বাজার মনিটরিং ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কুমিল্লায় উপজেলা ভিত্তিক একাধিক টিম কাজ করতেছে। যা ঈদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, স্কুল-কলেজ মাঠ বা সড়কে গরু বাজার আইনত নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সময়নিউজ২৪.কম/বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *