//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js


হঠাৎ সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বরেন্দ্রঞ্চলের চাষীরা দূচিন্তায়

মো.আককাস আলী :
শস্যভান্ডার হিসাবে খ্যাত বরেন্দ্রঞ্চলের নওগাঁ জেলা। এই জেলার চাল দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বেশ খ্যাতি অজ্ন করেছে। দেরিতে বৃষ্টি হলেও রোপা আমন ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষক। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তবে হঠাৎ সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বৃদ্ধিতে কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে  কৃষকের মাঝে।
কৃষকরা বলছেন, চলতি আমন মৌসুমে খরচ উঠবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।সবচেয়ে সমস্যা বর্গাচাষিদের। তারা বলছেন, কেজিপ্রতি সারের দাম বেড়েছে ৬ টাকা। এতে বিঘা প্রতি ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে তাদের। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর সেচ দিয়ে ধান রোপণ করতে হচ্ছে। সব মিলে শ্রমিক খরচ ও আনুষঙ্গিক যে খরচ হবে, তাতে চলতি মৌসুমে আমন চাষে তাদের কোনো লাভই হবে না। আবার অনেক সময় দাম দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না সার বলে অভিযোগ করেন চাষিরা।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার আমন মৌসুমে এক বিঘা জমিতে খরচ হবে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে ইউরিয়া সার ৩০ কেজি ৬৬০-৬৮০ টাকা, পটাশ ১০ কেজি ২৮০, ফসফেট ১৫ কেজি ৪২০, জিপসাম ১০ কেজি ২২০ টাকা। এছাড়া শ্রমিক, হালচাষ ও রোপণ করতে ৩ হাজার টাকা এবং সেচ খরচ হবে ১ হাজার টাকা। বিগত মৌসুমগুলোতে এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৫শ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ এবার সার এবং সেচ খরচে অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা।
সদর উপজেলার কীর্তিপুর গ্রামের কৃষক আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘এবার চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করছি। এরই মধ্যে দুই বিঘা জমিতে ধান রোপণ শেষ হয়েছে। হঠাৎ করে সারের দাম ৬ টাকা বেড়ে গেছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় খুব টেনশনে আছি।এছাড়াও ডিলার ইচ্ছা মাফিক সারের দাম নেবে। এতো বেশি টাকায় সার কিনে আবাদ করা সম্ভব নয়।’কৃষক সুমন আলী বলেন, ‘আমন ধান মূলত বৃষ্টিনির্ভর। কিন্তু যে ধানের চারা রোপণ করবো সেই সময় বৃষ্টি ছিল না।বাধ্য হয়ে সেচ দিয়ে ১ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। সারের দাম বাড়ানোয় উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়বে, সেই তুলনায় তো আর ধানের দাম পাবো না। ফলে লোকসানের বোঝা বাড়বে।’
মহাদেবপুর উপজেলার ঈশ্বরপুর গ্রামের কৃষক পান্জু সরদার বলেন, ‘এই বছর সেইভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে ধান চাষ করতে হচ্ছে। ফলে তেল ও বিদ্যুৎ খরচ লাগছে অনেক বেশি। এবারে সারের দামও বেড়ে গেল। এভাবে যদি সব কিছুর দাম বাড়তে থাকে তাহলে কৃষকরা চাষ করা বাদ দিয়ে দেবে।’
রানীনগর উপজেলার বর্গাচাষি লিয়াকত হোসেন জানান,তিনি এবার ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন চাষ করেছেন। অনাবৃষ্টির কারণে তাকে সেচ জন্য প্রথমেই ৭ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। হঠাৎ করে সারের দাম বৃদ্ধির কারণে তিনি বেকায়দায় পড়েছেন।বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন নওগাঁর সভাপতি রেজাউল করিম জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। বর্তমানে সারের সংকটও নেই। তবে বিশ্ব বাজারে সারের দাম বাড়াতে আমাদের  কিছুটা প্রভাব পরেছে। দাম বাড়ালেও সরকার কিন্তু ঠিকই ভর্তুকি দিচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মনজুরে মাওলা জানান, চাষাবাদে ইউরিয়া সার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কোনোভাবেই যাতে বিক্রেতারা সারের অতিরিক্ত মূল্য নিতে না পারে সেদিকে নজর আছে। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
%d bloggers like this: