//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js


হিলিতে অংশীদারের লাভের ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মোসলেম উদ্দিন,হিলি,দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবু তোরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীক অংশীদারকে লাভের অংশ না দিয়ে ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অংশীদারকে তিনি এবং তার ছেলে ৩টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি সহ ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।ইতোমধ্যে ১টি মামলা খারিজ হয়েছে।মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকালে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাসিন্দা ও হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী এটিএম মঞ্জরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে লিখিত ভাবে এঅভিযোগে করেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান,আমার এম এইচ ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হিলি স্থলবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমদানীকৃত পাথর বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছি। এই অবস্থায় আমার ব্যবসার পারফরমেন্স দেখে আবু তোরাব হোসেন আমাকে তার ব্যবসায়ীক অংশীদার করার প্রস্তাব দিলে আমি তাকে বলি ব্যবসায়ীক শর্ত মানলে অংশীদারে আপত্তি নাই। তখন আবু তোরাব রাজী হলে তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমতা সীড কোম্পানীর নামে আমরা যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে একমত হই এবং যৌথ অংশীদারী অঙ্গীকার নামা দলিল করি। সেই মোতাবেক গত বছরের ১ আগস্ট যৌথ ভাবে ব্যবসা শুরু করি।
তিনি আরও জানান, শর্ত অনুযায়ী আবু তোরাব পাথর ক্রয় করে আমাকে সরবরাহ করবেন। আমি তখন সরবরাহকৃত পাথর এম এম বিল্ডার্স ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করব এবং পাথরের সমুদয় টাকা আমাদের ওই যৌথ একাউন্টে জমা হবে এবং ব্যবসার লাভ সমান ভাবে ভাগ হবে। এইভাবে ব্যবসা চলার কিছুদিন পর মেসার্স মমতা সীড কোম্পানীর একাউন্ট ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, জয়পুরহাট শাখার (২৪৮১১০০০০২১০২) হিসাব নম্বর একাউন্টে আমার সরবরাহকৃত পাথর বিক্রির ১০,৭৪,০০০০/- (দশ কোটি চুয়াত্তর লক্ষ) টাকা জমা হয় এবং বলি আমাদের অংশীদারী ব্যবসার ১ বৎসর হলো এখন হিসাব-নিকাশ করা দরকার।
তখন তোরাব মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আজ-কাল হিসাব করা হবে বলে কালক্ষেপন করতে থাকেন। একপর্যায়ে হিসাব-নিকাশ করে দেখা যায় ৭৭,০০,০০০/- (সাতাত্তর লক্ষ) টাকা আমাদের লাভ হয়। তখন আমি আমার লাভের প্রাপ্য টাকা চাইলে তিনি তালবাহানা করতে থাকেন এবং বলেন অবশিষ্ট টাকা একাউন্টে জমা হলে ফাইনাল হিসাব করে পাওনা পরিশোধ করা হবে। এরিমধ্যে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল আবার আমাদের যৌথ একাউন্টে আমার সরবরাহকৃত পাথরের ১,০০,০০০০/- (এক কোটি) টাকা একাউন্টে জমা হয়। এরপর থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। কিছুদিন পর আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাকে ফোনে আশস্ত করে বলেন আমি অসুস্থ্যতার কারণে বাইরে আছি। এসে আপনার লাভের অংশের টাকা পরিশোধ করা হবে। যা আমার মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা আছে। এরপর আসার খবর পেয়ে হিলি চারমাথা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেলে তোরাব ও তার ছেলে তাহাকিক হাসান উত্তেজিত হয়ে বলে টাকা দিব না, কি করার আছে করিস। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলব। একপর্যায়ে চিৎকার দিয়ে তারা বলে এই দেখ তোর নামে ৩টি মামলা করেছি।প্রয়োজনে তোকে সাইজ করতে আরও মামলা করব। তুই চাঁদা নিতে এসেছিস।
পরর্বতীতে বিষয়টি আমি হিলি স্থলবন্দর আমদানী- রপ্তানীকারক গ্রুপে লিখিত অভিযোগ দেয়। তারা সরজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পেলে তোরাবকে টাকা দিতে বলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাকে পাওনা টাকা দেয়নি। উল্টো আমার নামে তারা ৩টি মিথ্যা মামলা করে হয়রাণী করছে এবং টাকা যেন না চায় তার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এটিএম মঞ্জরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করে বলেন, তারা এলাকার চিহ্নিত হুন্ডি ও মাদক কারবারী। আবু তোরাবের নামে হাকিমপুর থানায় ২০০৭ সালে ২৫ (বি) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে এজাহারভ‚ক্ত আসামী ছিলেন। তার ছেলে তাহাকিক হাসানের নামে ২০২১ সালে ২৫ (বি) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং তার আরেক ছেলে মেহেদীর নামে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। একারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এসব ঘটনায় আমি সম্প্রতি জয়পুরহাট আদালতে তাদের নামে ডিড জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছি এবং পুলিশ সহ বিভিন্ন দপ্তরে সুবিচার চেয়ে আবেদন করেছি।
এবিষয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩৭মিনিটে মোবাইল ফোনে আবু তোরাব হোসেনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ওই (এটিএম মঞ্জরুল ইসলাম) কিসের টাকা পাবে। আমি ওর বিরুদ্ধে মামলা করেছি। কোর্টে খোঁজ নেন বলে ফোন কেটে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
%d bloggers like this: