হিলি স্থলবন্দরের রাস্তা-ঘাট যেন মরণ ফাঁদ

মোসলেম উদ্দিন, হিলি (দিনাজপুর)
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। প্রতি বছর এবন্দর থাকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে সরকার। অথচ খানাখন্দে ভরা এই বন্দরের রাস্তা-ঘাট। ভারত থেকে প্রতিদিন  ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ ৩৫ থেকে ৪০ টন পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বন্দরে প্রবেশ করতে হয়। এমনটাই বলছেন ভারত থেকে আসা ট্রাক চালকরা।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ভারত সীমান্তের দ্বারপ্রান্তে হিলি চেকপোস্ট থেকে বন্দরের প্রবেশ পথটির বেহাল দশা। সিপি থেকে চারমাথা পর্যন্ত সড়কটি খানাখন্দে ভরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত পণ্য বোঝায় ট্রাক নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করছে ভারতীয় ট্রাক চালকরা। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এদিকে চারমাথা থেকে দক্ষিণে মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কের একি অবস্থা। রাতদিন ২৪ ঘন্টা শত শত পণ্যবাহী ট্রাকগুলো এই সড়ক দিয়ে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে যাতায়াত করে। ভারী পাথর বোঝায় ট্রাক নিয়ে যেতে সব সময় আতঙ্কে চলতে হয় দেশি ট্রাক চালকদের। আবার হিলি চারমাথা থেকে ঘোড়াঘাট নোকাল সড়কটিরও বেহাল দশা। হিলি থেকে জয়পুরহাট হয়ে মোকাতলার সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ করুন অবস্থা থাকায়, হিলি হয়ে ঘোড়াঘাটের নোকাল সড়কটি বেছে নিয়েছে গাড়ি চালকরা। কিন্তু ভারী পাথর বোঝায় ট্রাক যাতায়াতের কারণে চরম খানাখন্দে পরিণত হয়েছে সড়কটি। মাঝেমধ্যে রাস্তায় ফেঁসে যায় ট্রাকগুলো। অপর দিকে হিলি থেকে উত্তরে বিরামপুর যাওয়ার রাস্তা ঠিক তেমনি অবস্থা।
শুধু পণ্যবাহী ট্রাক নই, হিলি থেকে বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাস এবং ঢাকার কোচসহ পিক-আপ ভ্যান, আটোবাইক, ভ্যান-রিকশা যাতায়াত করে। আর এই ভাঙাচোরা রাস্তায় ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। খানাখন্দভরা সড়কগুলোই যানবাহন চলার সময় ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এই সড়ক ও জনপদ সড়কগুলো নির্মাণের পর থেকে তেমন জোড়ালো ভাবে পুনোরায় নির্মাণ হয়নি। তবে যখনি রাস্তাগুলোয় বড় ধরনের খানাখন্দের সৃষ্টি হয় তখনি ইট, বালু দিয়ে তা ভরাট করে সড়ক কতৃপক্ষরা। তা দেখে মনে হয় থুতু দিয়ে ছাতু মাখানোর মতো।
কথা হয় ভারত থেকে আসা ভুট্টা বোঝায় ট্রাক চালক  দিপক শিলের সাথে,তিনি বলেন, কি আর বলবো দাদা বাংলাদেশের রাস্তার যে অবস্থা। তাতে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত মাল বোঝায় ট্রাক নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করতে হয়।
ভারতীয় পাথর বোঝায় ট্রাক চালক গাজিদুল ইসলাম বলেন, ৪০ থেকে ৪২ টন পাথর নিয়ে প্রতিনিয়ত এই বন্দরে প্রবেশ করতে হয়। সিপি-চারমাথার ব্রীজটির দুই পাশে অনেক গর্ত, এই স্থানে গাড়ি তুলতে গাড়ির জীবন বেড়ে যায়।
হিলি থেকে দিনাজপুরগামী বাসে বসে থাকা একজন মহিলা যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, এই সড়কে যে অবস্থা, তাতে করে চলাফেরা করা জীবনের ওপর ওঠে। সিটে বসে থাকি আর গাড়ির ঝাঁকুনিতে পেটের নাড়িভুড়ি বের হয়ে আসে।
কথা হয় সেই গাড়ি চালক আলী হোসেনের সাথে, তিনি বলেন, কবে যে এই রাস্তার কাজ শুরু হবে। হিলি শহরের প্রতিটি রাস্তার একি অবস্থা। গাড়ি চালাতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। আর খানাখন্দের সড়ক দিয়ে যাতায়াতের কারণে ভাল গাড়ি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
হিলির রাজধানী মোড়ের মোখলেস রহমান বলেন, চারমাথা থেকে আমাদের রাজধানী মোড়ের রাস্তার বেহাল-দশা। নিরুপায় হয়ে ভারী ওজনের গাড়িগুলো এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। আর ছোট পিক-আপ ভ্যান অটোবাইক, রিকশা-ভ্যান, মোটরসাইকেল, সাইকেল চুড়িপট্টি হয়ে বাজার দিয়ে সিপিতে পৌরসভার ভাল রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে।
হাকিমপুর (হিলি) পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত জানান, আমাদের হিলি স্থলবন্দরের সড়ক ও জনপদ সড়কগুলোর বেহাল দশা। আমি প্রতি নিয়ত সড়ক বিভাগের কর্তৃপক্ষদের সাথে যোগাযোগ করে আসছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন অল্পদিনের মধ্যে এই সড়কগুলো ফোরল্যানের কাজ শুরু করবে। তাছাড়াও তাদের বলেছি, ফোরল্যান সড়কের দুই পাশে অবশ্যয় যেন ড্রেনের ব্যবস্থা করেন।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কারক গ্রুপের সভাপতি ও হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ হারুন জানান, হিলি চেকপোস্ট থেকে পানামা পোর্ট পর্যন্ত ৮ সিসি ঢালায়ের ফোরল্যান সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও চারমাথা থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত ৮ সিসি ঢালায়ের ফোরল্যান রাস্তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে ফোরল্যান সড়কের কাজ শুরু হবে।
এবিষয়ে দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সমিতা চাকমা জানান, হিলি চেকপোস্ট থেকে পৌরসভা পর্যন্ত সড়কটি ফোরল্যান করার নির্দেশ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সড়কটির ভুমি অধিগ্রহণের একটু জটিলতা আছে। তবে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে একটি টিম আসার কথা, সেই টিমটি পরিদর্শন করে আমাদের ফোরল্যান সড়কের অনুমতি দিলে কাজ শুরু করবো।
তিনি আরও জানান, আমরা হিলির সড়কটি চলাচলের জন্য প্রতি  নিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি আগামী ডিসেম্বর নাগাদ হিলি স্থলবন্দরে ফোরল্যান সড়কটির কাজ শুরু হবে।
সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *