শপথ নিলেন নবনির্বাচিত সাংসদরা

অনলাইন ডেস্কঃ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শপথ নিলেন নির্বাচিত  সাংসদরা।সকাল ১০টা থেকেই এমপিরা সংসদ ভবনে উপস্থিত হতে শুরু করেন। নতুন সংসদ সদস্যদের পরিচয়পত্রও প্রস্তুত করা হয়। সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যেই সংসদ সদস্যদের পরিচত্রপত্র প্রদান ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য বুথ স্থাপন করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পাঠানো গেজেট গতকাল বুধবার সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছায়। এর পর সংসদের পক্ষ থেকে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য বিজয়ীদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এরপর রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজেই নিজের শপথ গ্রহণ করেন। নিজের শপথের পর নির্বাচিতদের শপথবাক্য পাঠ করান তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খানকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।প্রথমে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, পরে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। 

সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ এবং শপথ নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক ডাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে বা স্পিকারকে না জানালে বিজয়ীদের আসন শূন্য হওয়ার বিধানও রয়েছে

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।গত সোমবার ভোরে (৪.১০ মিনিটে) নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি ঘোষণা দেন। ঘোষিত ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৯টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নির্বাচিত হয়েছে ২০টি আসনে, বিএনপি ৫টি আসনে, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি আসনে, জাসদ ২টি আসনে, গণফোরাম ২টি আসনে, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ২টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি আসনে, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি আসনে এবং স্বতন্ত্র ৩টি আসনে।২৯৯টি আসনে রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৩টি কেন্দ্রে ফলাফল স্থগিত থাকায় ওইসব আসনে পুননির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন; এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২। অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি। তবে জোটের আড়ালে বেশ কয়েকটি অনিবন্ধিত দলের নেতা নিবন্ধিত দলের প্রতীকে প্রার্থী হন। এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৮৬১ জন। ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৫ হাজার ৬৯১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর ৬ লাখ ৮ হাজার ও বাকি ৬৮ হাজার ৬১০ জন সদস্য নিয়োজিত আছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার পুলিশ; ৪ লাখ ৪৬ হাজার আনসার এবং ৪১ হাজার গ্রামপুলিশ। ৬০০ প্লাটুন র‌্যাব এবং ৯৮৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্যও দায়িত্ব পালন করে ভোটের মাঠে। এর বাইরে ৩৮৯ উপজেলায় ৪১৪ প্লাটুন সেনাসদস্য, ১৮ উপজেলায় নৌবাহিনীর ৪৮ প্লাটুন এবং ১২ উপজেলায় ৪২ প্লাটুন কোস্টগার্ড সদস্য ভোটের দায়িত্ব পালন করেন। সারাদেশে ১ হাজার ৩২৮ নির্বাহী হাকিম এবং ৬৪০ বিচারিক হাকিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটির ২৪৪ সদস্য ছিলেন ভোটের মাঠে।

সময়নিউজ২৪.কম/বি এম এম  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *