ফাইল ছবি

আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন

অনলাইন ডেস্কঃ 

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো শপথ গ্ওরহ্ন ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আগামীকাল বুধবার টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন তিনি। তার সঙ্গে যাবেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমানের কাছে পাঠানো এক ফ্যাক্স বার্তায় জানানো হয়, আগামী বুধবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে গণভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশ্য যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টার যোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। বেলা ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিবেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করবেন।এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের টুঙ্গিপাড়ায় আগমন উপলক্ষে জেলার সর্বত্র ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।গত সোমবার ভোরে (৪.১০ মিনিটে) নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি ঘোষণা দেন। ঘোষিত ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৯টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নির্বাচিত হয়েছে ২০টি আসনে, বিএনপি ৫টি আসনে, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি আসনে, জাসদ ২টি আসনে, গণফোরাম ২টি আসনে, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ২টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি আসনে, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি আসনে এবং স্বতন্ত্র ৩টি আসনে।২৯৯টি আসনে রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৩টি কেন্দ্রে ফলাফল স্থগিত থাকায় ওইসব আসনে পুননির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন; এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২। অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি। তবে জোটের আড়ালে বেশ কয়েকটি অনিবন্ধিত দলের নেতা নিবন্ধিত দলের প্রতীকে প্রার্থী হন। এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৮৬১ জন। ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৫ হাজার ৬৯১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর ৬ লাখ ৮ হাজার ও বাকি ৬৮ হাজার ৬১০ জন সদস্য নিয়োজিত আছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার পুলিশ; ৪ লাখ ৪৬ হাজার আনসার এবং ৪১ হাজার গ্রামপুলিশ। ৬০০ প্লাটুন র‌্যাব এবং ৯৮৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্যও দায়িত্ব পালন করে ভোটের মাঠে। এর বাইরে ৩৮৯ উপজেলায় ৪১৪ প্লাটুন সেনাসদস্য, ১৮ উপজেলায় নৌবাহিনীর ৪৮ প্লাটুন এবং ১২ উপজেলায় ৪২ প্লাটুন কোস্টগার্ড সদস্য ভোটের দায়িত্ব পালন করেন। সারাদেশে ১ হাজার ৩২৮ নির্বাহী হাকিম এবং ৬৪০ বিচারিক হাকিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটির ২৪৪ সদস্য ছিলেন ভোটের মাঠে।

সময়নিউজ২৪.কম/বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *